আজকাল নতুন কোনো ফোন লঞ্চ হওয়া মানেই সবাই শুধু বড় বড় স্পেসিফিকেশন দেখায় কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো ফোনটা বাস্তবে ব্যবহার করলে কেমন লাগবে সেটা নিয়ে আলোচনা কুব কমই হয়। রিয়েলমি তাদের নারজো সিরিজে নতুন করে নিয়ে এসেছে Narzo 90 এবং 90X , সেটাও ঠিক এই বাস্তব ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা।এমনিতেই রিয়েলমির নরোজা সিরিজের প্রায় সকল ফোনই ভারতের বাজারে বেশ সফলতা পেয়েছে।এবার দেখা যাক এই ফোনটি মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ফোনটি সেইসব মানুষদের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে , যাঁরা দিনের অনেকক্ষণ সময় ফোন ব্যবহার করেন যেমন কল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ফেসবুক, মাঝে মাঝে গেম এই সব মিলিয়ে সারাদিন ব্যবহার করলেও যেন বার বার চার্জ দিতে না হয়।
ডিজাইন নিয়ে যদি কথা বলি তাহলে সোজাসুজি বলাই ভালো এইদিক Realme Narzo 90 এবং 90X খুব বেশি চমক দেখানোর চেষ্টা করেনি। তবে Realme ও দাবি করছে তাদের এই ফোনগুলো পেন্সিল এর থেকেও পাতলা ও কম্প্যাক্ট । স্লিম বডি, পরিষ্কার ব্যাক ডিজাইন আর সুন্দরভাবে বসানো ক্যামেরা সেটআপ সব মিলিয়ে ফোনটি হাতে নিলে বাজেট ফোনের মধ্যে একটা সেরা লুক দেবার চেষ্টা করেছে।
ডিসপ্লের কথা বলতে গেলে যেটা প্রথেই বলতে হবে সেটা হলো AMOLED ডিসপ্লের সঙ্গে থাকছে 4000নিটস পিক ব্রাইটনেস। রিয়েলমী দাবি করছে ডিসপ্লে এতটাই উজ্জ্বল হবে যে দিনেরবেলাও আপনি অনায়াসে সূর্যের আলোতেও গেম খেলতে পারবেন একটুও অসুবিধা হবে না।120Hz &144 Hz refresh রেটে সুবাদে এবং বড় ডিসপ্লে হওয়ায় ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা বেশ আরামদায়ক হবে। স্ক্রল করার সময় ফোন হোঁচট খায় না, অ্যাপ বদলাতেও দেরি হয় না। যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
পারফরম্যান্সের কথা বললে, Realme Narzo 90X আসে মিডিয়াটেক dimensity 6300 চিপ সেটের সঙ্গে তাই স্মুথ পারফরমেন্স আসা করা যায়।এই ফোনটি হেভি গেমিংয়ের জন্য নয় ঠিকই কিন্তু Freefire এর মত গেম বিনা ল্যাগে খেলতে পারবেন তাছাড়া সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে কোথাও সমস্যা দেখা যাবে না। অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ, ভিডিও কল, নরমাল গেম—সবকিছুই ঠিকঠাক চলে।একসাথে কয়েকটা অ্যাপ খোলা থাকলেও ফোন হ্যাং হওয়ার প্রবণতা কম।
সবচেয়ে বেশি Realme এই ফোনের ব্যাপারে জোর দিয়ে প্রচার করেছে তো হলো এই ফোনের Battery। 7000mAh এর বড় ব্যাটারি এবং 60 ওয়াট এর ফাস্ট চার্জার এছাড়াও 6 বছরের ব্যাটারি লাইফ দাবি করেছে তারা তাদের ওয়েবসাইটে যা এই সেগমেন্ট এ খুবই বড় ব্যাপার।একবার ফুল চার্জ দিলে বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য পুরো দিন তো চলবেই, অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি সময় চলতে পারে। যাঁরা বাইরে বেশি থাকেন বা সবসময় চার্জার সঙ্গে রাখতে চান না, তাঁদের জন্য এটা বড় প্লাস পয়েন্ট। চার্জ ফুরিয়ে গেলেও ফাস্ট চার্জিং থাকায় বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় না।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে রিয়েলমি খুব বেশি বড় দাবি করেনি, মেইন ক্যামেরা 50 MP AI এবং 8 MP AI সেলফি ক্যামেরা। ভালো আলোতে ছবি পরিষ্কার আসে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার জন্য যথেষ্ট। সেলফি ক্যামেরাটাও ভিডিও কল বা ইনস্টাগ্রাম স্টোরির জন্য ঠিকঠাক কাজ করে। খুব প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির আশা করলে হতাশ হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারে অভিযোগ করার সুযোগ কম।
সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা মোটামুটি স্মুথ। অ্যান্ড্রয়েডের ওপর রিয়েলমির নিজস্ব ইন্টারফেস থাকায় কিছু অতিরিক্ত ফিচার পাওয়া যায়। চাইলে নিজের মতো করে সেটিংস কাস্টমাইজ করা যায়, আবার অপ্রয়োজনীয় জিনিস বন্ধও করা যায়।
দামের দিক থেকে দেখলে, এই ফোনটি লোয়ার মিড রেঞ্জেই থাকবে মূলত স্টুডেন্ট, প্রথমবার স্মার্টফোন ব্যবহারকারী কিংবা যাঁরা বেশি টাকা ফোনের পিছনে খরচ করতে চান না এই গ্রুপের জন্য। লঞ্চ অফার থাকলে দাম আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন রিয়েলমি নারজো ফোনটি এমন কোনো ডিভাইস নয় যা সবকিছুতে সেরা হবে। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য এটি যথেষ্ট ব্যালান্সড একটি স্মার্টফোন। বাজেটের মধ্যে ভালো ব্যাটারি, স্থির পারফরম্যান্স আর নির্ভরযোগ্য ব্যবহার—এই তিনটা যদি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে এই ফোনটি একবার দেখা যেতেই পারে।
1 Comments
Eta ki Amazon sale e live hoyeche
ReplyDelete